শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:১১ অপরাহ্ন
সাদিকা জাহান
বর্তমানে সারা বিশ্বে ডায়াবেটিস একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যান্য দেশগুলির সঙ্গে বাংলাদেশের পরিস্থিতিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক, কারণ এই রোগটি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, এখনো যদি যথাযথ সাবধানতা অবলম্বন করা হয়, তবে এর হাত থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এর জন্য প্রি-ডায়াবেটিস পর্যায়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
ডায়াবেটিস হওয়ার পূর্ববর্তী অবস্থাটি হল প্রি-ডায়াবেটিস। এই অবস্থায় রক্তে শর্করার পরিমাণ স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি হয়ে যায়, তবে তা ডায়াবেটিসে পরিণত হয় না। এই পর্যায়ে ডায়াবেটিসের লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
প্রি-ডায়াবেটিসের লক্ষণসমূহ:
১. অতিরিক্ত তৃষ্ণা অনুভব করা। ২. বারবার প্রস্রাব হওয়া। ৩. দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হয়ে যাওয়া। ৪. প্রায়ই ক্লান্তি বোধ করা।
প্রি-ডায়াবেটিস কেন হয়:
১. শারীরিক অনুপ্রাণিত না থাকার কারণে প্রি-ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। ২. অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা প্রি-ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়ায়। ৩. উচ্চ রক্তচাপও এই রোগের জন্য দায়ী হতে পারে। ৪. গর্ভাবস্থায় এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। ৫. পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) প্রি-ডায়াবেটিসের একটি কারণ হতে পারে। ৬. কোলেস্টেরলের ভারসাম্যহীনতা প্রি-ডায়াবেটিসের পেছনে এক গুরুত্বপূর্ণ কারণ। ৭. পরিবারের ইতিহাসে ডায়াবেটিস থাকলেও সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি।
কীভাবে প্রি-ডায়াবেটিস প্রতিরোধ করবেন:
রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে তা মোকাবিলা করা অত্যন্ত জরুরি। প্রি-ডায়াবেটিস প্রতিরোধের জন্য কিছু কার্যকরী উপায় নিচে দেওয়া হল:
১. নিয়মিত ব্যায়াম করা:
ব্যায়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। তাই নিয়মিত হাঁটা, দৌড়, যোগব্যায়াম, মেডিটেশন, কার্ডিও ইত্যাদি ব্যায়াম করা উচিত।
২. স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:
কার্বোহাইড্রেট ও চিনির অতিরিক্ত পরিমাণ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে। প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ সমৃদ্ধ খাবার শরীরে শর্করার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। স্যাচুরেটেড ফ্যাট, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাবার পরিহার করা উচিত।
৩. ওজন কমানো:
স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ-২ ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য সমস্যার ঝুঁকি কমাতে স্থূলতা নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ওজন শরীরের ইনসুলিনের প্রতি প্রতিরোধী হয়ে উঠতে সাহায্য করে। বিএমআই বৃদ্ধি পাওয়া মানে প্রি-ডায়াবেটিসের সম্ভাবনা বাড়ানো।
এছাড়া, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ওজন কমানো মাধ্যমে প্রি-ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।